জাপানে এবার টোকিও ও সাইতামা দুই জায়গায় বৈশাখী মেলা হচ্ছে। আমি সাইতামা তে গেলাম।
আমাদের বাড়ি থেকে এক ট্রেনে মাত্র ১ ঘণ্টায় যেতে পেরেছি। আমার সাথে ছিল ডঃ আপ্সারি আ ল্পনা ।
অনেক ভাল লেগেছে। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে অনেক র কম খাবার উপ ভোগ ক রলাম।
কাঁচা আম ভর্তা , সিঙ্গারা, পুরী , বোরহানি দারুণ লেগেছে। চিকেন হালিম, গিলে ঘুগনি দিয়ে মুড়ি মাখানো মোটামুটি লেগেছে। ফুসকা, চিকেন টিক্কা কাবাব ও ভাল ছিল ।
অনেকে দেখলাম পান্তা ইলিশ খাচ্ছে। আমি ওইদিকে গেলাম না। মাট ন বিরিয়ানি, বিফ তেহারি আর চিকেন টিক্কা কাবাব কিনে আনলাম ছেলের জন্য।
এত আন ন্দ ক রেছি , যে আবার প্রতিদিনের জীব নে ফি রতে হবে ম নে ক র লেই ম নটা উদাস হ ইয়ে যাচ্ছিল।
রবি ঠাকুরের ক থা গুলি তাই ম নে পড়ে গেল
প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকী—কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ!
উৎসবের দিনে আমরা যে সত্যের নামে বহুতর লোকে সম্মিলিত হই, তাহা আনন্দ, তাহা প্রেম। উৎসবে পরস্পরকে পরস্পরের কোনো প্রয়োজন নাই--সকল প্রয়োজনের অধিক যাহা, উৎসব তাহাই লইয়া। এইজন্য উৎসবের একটা প্রধান লক্ষণ প্রাচুর্য। এইজন্য উৎসবদিনে আমরা প্রতিদিনের কার্পণ্য পরিহার করি প্রতিদিন যেরূপ প্রয়োজন হিসাব করিয়া চলি, আজ তাহা অকাতরে জলাঞ্জলি দিতে হয়। দৈন্যের দিন অনেক আছে, আজ ঐশ্বর্যের দিন।
আজ সৌন্দর্যের দিন। সৌন্দর্যও প্রয়োজনের বাড়া। ইহা আবশ্যকের নহে, ইহা আনন্দের বিকাশ--ইহা প্রেমের ভাষা। ফুল যদি সুন্দর না হইত, তবু সে আমার জ্ঞানগম্য হইত, ইন্দ্রিয়গম্য হইত--কিন্তু ফুল যে আমাকে সৌন্দর্য দেয়, সেটা অতিরিক্ত দান। এই বাহুল্যদানই আমার নিকট হইতে বাহুল্য প্রতিদান গ্রহণ করে--সেই যে বাহুল্য প্রতিদান, তাহাই প্রেম। এই বাহুল্য প্রতিদানটুকু লইয়া ফুলেরই বা কী, আর কাহারই বা কী। কিন্তু একদিকে এই বাহুল্য সৌন্দর্য, আর একদিকে এই বাহুল্য প্রেম, ইহা লইয়াই জগতের নিত্যোৎসব--ইহাই আনন্দসমুদ্রের তরঙ্গলীলা।
No comments:
Post a Comment