সবজির এই রান্নাটা খুবই সামান্য তেল কিংবা ঘি দিয়ে করা যায়, বড় এক বাটি সবজির জন্য এক টেবিল চামচ দিলেই চলে। ফলে, এটা খুব ডায়েট ফ্রেন্ডলি। সেদ্ধ সবজি খেয়ে খেয়ে বোর হয়ে গেলে এটা ট্রাই করতে পারেন।
পৃথিবীর সবচাইতে সহজ আর অদ্ভুত সুস্বাদু এই পাঁচমিশালি সবজিটা রান্না করতে সময় লাগে খুবই অল্প! একবার তৈরি করে অবশ্যই খেয়ে দেখবেন, এটার স্বাদে মুগ্ধ হবেন।
রেসিপি দিচ্ছি-
কাঁচা পেঁপে, আলু(চাইলে বাদ দিতে পারেন) , গাজর, পটল, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়ো, লাউ, বরবটি ইত্যাদি মিলিয়ে ২ কাপ পরিমাণ সবজি নেবেন। চৌকো করে কেটে নিলে বেশ সুন্দর দেখাবে। যেকোনো দুই তিন রকম সবজি বা আপনার পছন্দমত যে কোন সবজি দিতে পারেন। তবে, বেগুন দিলে সবজির রংটা কালো হয়ে যাবে। সিম দিলে আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগে না।
সবজি গুলোকে অল্প পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নেবেন। এমনভাবে পানি দেবেন যেন সবজি সেদ্ধ হয়ে পানিটা টেনে যায়। চাইলে স্টিম করেও নিতে পারেন। সব সবজি একসাথে দিয়ে দিলেও বরবটি টা শুরুতেই দেবেন না। অন্যান্য সবজি অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে গেলে তারপর বরবটি দিয়ে বাকিটা সেদ্ধ করবেন।
এবার একটা কড়াইতে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে তাতে একটা তেজপাতা, আস্ত শুকনো মরিচ আর এক চিমটি আস্ত জিরে ফোড়ন দেবেন। এতে দিয়ে দিবেন এক মুঠো পেঁয়াজ কুচি, আর একটু বেশি করে রসুন কুচি। মাঝারি আঁচে সুন্দর করে লাল লাল করে ভাজবেন...
গরম পেঁয়াজ রসুনের ভেতরেই দিয়ে দেবেন সেদ্ধ করে রাখা সবজি। স্বাদমতো লবণ, এক চিমটি চিনি (চাইলে বাদ দিতে পারেন) আর খুবই সামান্য হলুদ দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখবেন ৩/৪ মিনিট।
এরপর ঢাকনা খুলে ভালো মতো নেড়ে নামিয়ে নেমেন। চাইলে সবজিটা একদম মাখোমাখো রাখতে পারেন আবার চাইলে একটু ঝোল ঝোলও করা যায়। পরিবেশন করতে পারেন ভাত রুটি পোলাও ইত্যাদির সাথে।
টিপস-
চাইলে সবজিটা অগ্রিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন,, যখন প্রয়োজন হয় বের করে ফোড়ন দিলেই পাঁচমিশালি সবজি রেডি। তবে ফ্রিজে রাখতে চাইলে সেদ্ধ করার সময় এক চিমটি লবণ দেবেন।
এই সবজিটা রান্না করে এয়ার টাইট বক্সে ভরে রেখে দিলেও বেশ কয়েকদিন ফ্রিজে ভালো লাগে।
পরিবেশনের সময় ধনিয়া পাতা ও বেরেস্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
এই সবজির ফোড়নে খানিকটা হিং যোগ করলে অনেক বেশি সুস্বাদু হয়। হিং দিলে খুব সামান্য, এক চিমটি দিতে হবে না। যারা পেয়াজ কিংবা রসুন খেতে চান না তারা সেটার বদলে হিং দিতে পারেন তাহলে পেঁয়াজ রসুনের অভাব বুঝতে পারবেন না
যদি ঘি বা মাখনে সবজিটা রান্না করেন তাহলে স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।
আদা বাটা কিংবা আদা কুচি চাইলে দেয়া যায়, কিন্তু তাতে ফ্লেভারটা অন্যরকম হয়ে যাবে। যারা পেঁয়াজ বা রসুন খাবেন না তারা আদা যোগ করতে পারেন।
No comments:
Post a Comment